কাঞ্চনগ্রাম
Original price was: 900.00৳.675.00৳Current price is: 675.00৳.
দূর প্রবাসের নিভৃতে পরম সংবেদনশীল এক লেখক সুগভীর ও প্রসারিত চেতনা নিয়ে ধারণ করতে ব্রতী হয়েছিলেন গোটা জনপুদ্ধ ও জনগোষ্ঠীর জীবন বারা এবং জীবন-দর্শনের সারসত্য। তপস্যামগ্ন ঋষির মতো তাঁর এই ঐকান্তিক প্রয়াসের ফসল বিশালাকার উপন্যাস ‘কাঞ্চনগ্রাম’, বাংলা কথাসাহিত্যে যার আর কোনো নিকট-তুলনা নেই। পাঠকমনকে নিঃসন্দেহে আলোড়িত করবে এই উপন্যাস, বদলে দেবে তাঁর জীবনভাবনা এবং স্থায়ী আসন করে নেবে আমাদের সাহিত্যে। উপন্যাস অনেক লেখা হয় বটে, তবে সত্যিকার অর্থে জীবনের আখ্যান হয়ে উঠতে পারে গুটিকয় মাত্র। তেমনি এক অনন্য সৃজন ‘কাঞ্চনগ্রাম’ উপন্যাস, বাঙালি জাতির অমোঘ জীবনগাথা।
‘কোনও দেশের রাষ্ট্রীয় সীমা এবং উহার ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক সীমা সর্বত্র সকল সময় এক না-ও হইতে পারে। রাষ্ট্রীয় সীমা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রসার ও সঙ্কোচনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনশীল। প্রাকৃতিক সীমা কখনও কখনও রাষ্ট্রসীমা নির্ধারণ করে; প্রাচীন ইতিহাসে তাহাই ছিল সাধারণ নিয়ম। ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক সীমা প্রধানত নির্ণীত হয় ভূপ্রকৃতিগত সীমা দ্বারা, দ্বিতীয়ত একজনত্ব দ্বারা এবং তৃতীয়ত ভাষার একত্ব দ্বারা। সাধারণত দেখা যায় বিশিষ্ট প্রাকৃতিক সীমার আবেষ্টনীর মধ্যেই জাতি ও ভাষার একত্ব বৈশিষ্ট্য গড়িয়া ওঠে। অন্তত প্রাচীন বাংলায় তাহাই হইয়াছিল। জন ও ভাষার এই একত্ব বৈশিষ্ট্য একদিনে গড়িয়া ওঠে নাই। প্রাগৈতিহাসিক কাল হইতে আরম্ভ করিয়া এই একত্ব দানা বাঁধিতে বাঁধিতে প্রাচীন যুগের শেষাশেষি আসিয়া পৌঁছিয়াছে মধ্যযুগের আগে তাহার পূর্ণ প্রকাশ দেখা যায় নাই। বাংলার বিভিন্ন জনপদরাষ্ট্র তাহাদের প্রাচীন ভৌগোলিক ও রাষ্ট্রীয় স্বাতন্ত্র্য বিলুপ্ত করিয়া এক অখণ্ড ভৌগোলিক ও রাষ্ট্রীয় ঐক্যসম্বন্ধে যখন আবদ্ধ হইল, বিভিন্ন স্বতন্ত্র নাম পরিহার করিয়া এক বঙ্গ বা বাংলা নামে অভিহিত হইতে আরম্ভকরিল, তখন বাংলার ইতিহাসের প্রথমপর্ব অতিক্রান্ত হইয়া গিয়াছে। প্রাচ্যদেশীয় প্রাকৃত ও মাগধী প্রাকৃত হইতে স্বাতন্ত্র্য লাভ করিয়া, অপভ্রংশ পর্যায় হইতে মুক্তিলাভ করিয়া বাংলা যখন তাহার যথার্থ আদিরূপ প্রকাশ করিল তখন আদি পর্ব শেষ না হইলেও প্রায় শেষ হইতে চলিয়াছে। এই জন ও ভাষার একত্ব বৈশিষ্ট্য লইয়াই বর্তমান বাংলাদেশ এবং সেই দেশ চতুর্দিকে বিশিষ্ট ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক সীমা দ্বারা বেষ্টিত। বাংলার দক্ষিণ সীমায় বঙ্গোপসাগর এবং তাহারই তট ঘিরিয়া মেদিনীপুর-চব্বিশ পরগণা, খুলনা-বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা ও ত্রিপুরার দক্ষিণতম প্রান্ত
(অর্থাৎ চাঁদপুর)-নোয়াখালি-চট্টগ্রামের সমতট ভূমির সবুজ বনময় অথবা শস্যশ্যামল আস্তরণ। এই জেলাগুলোর অধিকাংশ নিম্নভূমি ক্রমশ
গড়িয়া উঠিয়াছে অসংখ্য নদী বাহিত পলিমাটি এবং সাগর গর্ভতাড়িত বালুকারাশির সমন্বয়ে। এই প্রাকৃতিক সীমা-নির্ধারিত ভূমিখণ্ডের মধ্যেই প্রাচীন বাংলার গৌড়-পুণ্ড্র-বরেন্দ্রী-রাঢ়-সুক্ষ-তাম্রলিপ্ত-সমতট-বঙ্গ-বঙ্গাল-হরিকেল প্রভৃতি জনপদ ও ভাগীরথী-করতোয়া-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা এবং আরও অসংখ্য নদ-নদী বিধৌত বাংলার গ্রাম, নগর, প্রান্তর, পাহাড় ও কান্তার। এই ভূখণ্ডই ঐতিহাসিক কালের বাঙালি কর্মকৃতির উৎস এবং ধর্ম-কর্ম-নর্ম ভূমি। একদিকে সুউচ্চ পর্বত, দুইদিকে কঠিন শৈলভূমি, আর একদিকে বিস্তীর্ণ সমুদ্র, মাঝখানে সমভূমির সাম্য ইহাই বাঙালির ভৌগোলিক ভাগ্য’ (নীহাররঞ্জন রায়-বাঙালির ইতিহাস)। ‘বাঙালির জনপ্রকৃতিতে এ-পর্যন্ত যেসব উপাদান পাওয়া গিয়াছে তাহাতে বলা যায় ভেড্ডীয় উপাদনই বাংলার জনগঠনের মূল ও প্রধান উপাদান। পরে কালক্রমে নানা অবস্থায় তাহাতে কম বেশী মাত্রায় পশ্চিমে ইন্দো-আর্য ও শক-পামিরীয় উপাদান এবং পূর্বে মঙ্গোলীয় ও মালয়-ইন্দোনেশীয় উপাদান আসিয়া মিশিয়াছে। মোটামুটিভাবে ইহাই বাংলাভাষাভাষী জনসৌধের চেহারা এবং এই জনসৌধের উপরই বাঙালির ইতিহাস গড়িয়া উঠিয়াছে। এই বিমূর্ত শঙ্কর জন লইয়াই বাংলার ও বাঙালির ইতিহাসের সূত্রপাত’ (নীহাররঞ্জন রায়, বাঙালির ইতিহাস)।
ইন্দোচীন ও এশিয়ার বিভিন্ন বর্ণনায়ও ‘বাংলি’ নামক এক জনগোষ্ঠির উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। কোন কোন বিদেশী ভ্রমণ গ্রন্থেও তাহাদের অবস্থিতির উল্লেখ আছে জাভা-সুমাত্রা-বলীদ্বীপে। ভাষাগত সাদৃশ্যের জন্যও ভারত মহাসাগরীয় অন্যান্য দ্বীপপুঞ্জে,
বিশেষভাবে সিংহলের কথা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কোনও দেশই তাহার নিজস্ব ভাষা ও ইতিহাসকে অস্বীকার করিয়া কোনও স্বকীয়তা অর্জন করিতে পারে নাই।
“A viable nation state which has the capacity not only to revive but develop its own cultural identity needs to have a ‘history’ or, if you like, ‘myth’ of continuity with the fairly remote past.” (Sir R. Edmond Leach, Cambridge, U.K.-Pacific Science Congress, 1983) Address entitled ‘Ocean of Opportunity?’ on Pacific Islands Potential.”


Reviews
There are no reviews yet.